রুহুল আমীন খন্দকার, ব্যুরো প্রধান :
রাজশাহীর তানোর উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে মহামারী করোনা ভাইরাস উপেক্ষা করে কোনো প্রকার নিয়ম নিতির তোয়াক্কা না করেই চলছে ইফতারী বিক্রির হিড়িক। এমনকি সতর্কতায় মূলক নিজেদের সুরক্ষিত রাখার মাক্স’টিও মুখে পরছেনা। সরকার তথা প্রশাসনের এতোটা পরিশ্রমের কোন মূল্যই দিচ্ছেন না কিছু একরোখা আর অসচেতন মানুষ। প্রশাসনের একের পর এক করোনা প্রতিরোধ অভিযান সর্তেও মানা হচ্ছেনা কোন নিয়ম বিধি অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে এই বেহাল দশা দেখার কেউ নেই।শনিবার (২৫শে এপ্রিল) বিকেল ৪ টার পরে থেকে দেখা যায় একেক জায়গায় ১৫/২০ জন করে মানুষ একত্রিত হয়ে ইফতার কেনাসহ খোশমেজাজ গল্প গুজব চালাচ্ছেন। এ বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা তাদেরকে সচেতন করাসহ ছবি তুলতে গেলে উল্টো এ সচেতন ব্যক্তিদের রোষানলে পড়েন তারা। এ সময় ওই অসচেতন ব্যাক্তিরা বলেন, আমরা কোন প্রকার করোনা বুঝিনা আর বুঝতে ও চাইনা এইভাবে কথা বলেন তারা। ইতোমধ্যে শনিবার বিকেলে তানোর উপজেলা সদরসহ বেশ কিছু এলাকার বিভিন্ন জায়গা ঘুরে এমনই দৃশ্য দেখা গেছে। মহামারী করোনায় চলমান পরিস্থিতিতে ঘরে না থেকে রাষ্ট্রীয় আইনকে বিদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে এ ভাবেই চলছে ইফতারী বিক্রির নামে আড্ডা বাজি। যেখানে সুরক্ষার জন্য ২ জনের অধিক মানুষ একত্রিত হওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য প্রশাসনিক ভাবে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। কিন্তু কতিপয় অসচেতন জণসাধারণ সেই আইনটিকে অমান্য করে প্রাণঘাতী করোনাকে নিজে থেকেই ঘরে ডেকে নিয়ে আসছে। এতে করে শুধু নিজেরাই নয় পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ সমাজের সবার মাঝে করোনা ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপক আশংক্ষা রয়েছে বলে মনে করছেন এলাকার সুশীল সমাজের সচেতন মানুষরা।প্রথম রমজানেই সরজমিন অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, তানোর পৌরসদরের গোকুল মাদ্রাসা মোড়সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকাগুলোতে লোকজনের সমাগম দিনে দিনে যেন বেড়েই চলেছে। গোটাবিশ্ব যেখানে করোনা ভাইরাস নিয়ে আতংঙ্কে দিশেহারা সামরিক বাহিনী (সেনাবাহিনী) থেকে শুরু করে দেশের অন্যান্য প্রশাসন গুলো এর বিস্তার রোধে নিয়েছেন কঠোর অবস্থান। অথচ প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে কিছু অসচেতন ও একরোখা মানুষ বিশৃঙ্খল ভাবে করছেন চলা ফেরা। এছাড়াও প্রত্যান্ত অঞ্চলেও করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতন না হয়ে দিন-দিন তারা এই বিশৃঙ্খলতা চালিয়ে যাচ্ছে, এ যেন দেখেও দেখার কেউ নেই। কোনো সচেতন নাগরিক যদি এদের বোঝানোর চেষ্ট করেন সেটাও শুনছে না এরা। বরং নানান ভাবে এই অসচেতন লোক গুলোকে যারা বোঝাচ্ছেন তাদেরই উল্টো হেউ প্রতিপূর্ণ করে কথা-বার্তা বলছেন।এ বিষয়ে এলাকার বাংলাদেশ মানবাধিকার সংগঠন ও সুশীল সমাজের নাগরিকের সাথে কথা হলে তারা বলেন, এহেন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রশাসন করোনা প্রতিরোধে বিভিন্নভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে যা অত্যন্ত প্রশংষণীয়। তারপরেও বর্তমান পরিস্থিতিতে পবিত্র রমজান মাষে প্রশাসনকে এই অসচেতন এলাকা গুলো চিহ্নিত করে অতি দ্রুততার সাথে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার উদ্ধারত্ব আহ্বান জানান। পাশাপশি বাংলাদেশ মানবাধিকার সংগঠন ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে এই অসচেতন মানুষ গুলোকে দেশের এরকম ক্রান্তিলগ্নে উশৃঙ্খল ভাবে চলা-ফেরা না করে করোনা প্রতিরোধে নিজ-নিজ ঘরে থাকে রাষ্ট্রীয় সকল নির্দেশনাকে মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/২৫ এপ্রিল ২০২০/ইকবাল